ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: প্রাচ্যের অক্সফোর্ড যেখানে ইতিহাস হাসে আর ছাত্ররা হাসায়

Pathology Knowledge
0

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: প্রাচ্যের অক্সফোর্ড যেখানে ইতিহাস হাসে আর ছাত্ররা হাসায়


যদি কখনো ভেবে থাকেন যে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় কোনো জায়গা আছে যেখানে ইতিহাসের ধুলোবালি সাফ করে মজার গল্প শোনানো হয়, তাহলে স্বাগতম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে! এই বিশ্ববিদ্যালয়টি শুধু বাংলাদেশের প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, এটি "প্রাচ্যের অক্সফোর্ড" নামে খ্যাতি পেয়েছে—যদিও অক্সফোর্ডের মতো এখানে নৌকা দৌড় নেই, তবে ভাষা আন্দোলনের মতো ঐতিহাসিক দৌড় তো আছেই। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোথায় অবস্থিত? ঠিক ঢাকা শহরের হৃদয়ে, রমনা এলাকায়, যেখানে প্রায় ২৭৫ একর জমিতে ছড়িয়ে আছে সবুজ প্রাঙ্গণ, ঐতিহাসিক ভবন আর অগণিত ছাত্র-ছাত্রীর হাসি-ঠাট্টা। চলুন, একটু মজার চোখে এই প্রতিষ্ঠানের গল্প শুনি।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: প্রাচ্যের অক্সফোর্ড যেখানে ইতিহাস হাসে আর ছাত্ররা হাসায়


ইতিহাসের মজার টুইস্ট: কীভাবে শুরু হলো এই "অক্সব্রিজ" স্টাইলের যাত্রা


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম ১৯২১ সালে, যখন ব্রিটিশরা অক্সফোর্ড-কেমব্রিজের মতো একটা বিশ্ববিদ্যালয় বানানোর স্বপ্ন দেখলেন। নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহ ৬০০ একর জমি দান করলেন—যা দেখে মনে হয়, তিনি ভেবেছিলেন, "জমি তো আছেই, চলো একটা বিশ্ববিদ্যালয় বানাই, যাতে ছাত্ররা জমি নিয়ে ঝগড়া না করে পড়াশোনা করে!" পরে সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী টাকা দান করলেন, আর বঙ্গভঙ্গ রদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে এটি দাঁড়ালো। প্রথমে মাত্র ৮৭৭ জন ছাত্র দিয়ে শুরু, যার মধ্যে একজন মাত্র মেয়ে—যেন বলছে, "শুরুতে ধীরে, পরে ঝড়ে!"


ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধ—এই ক্যাম্পাস দেখেছে সব। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনে ছাত্ররা রাস্তায় নেমে পড়লো, আর ১৯৭১-এ পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণে অনেকে শহীদ হলেন। মজার ব্যাপার, এখানকার ছাত্ররা শুধু বই পড়েনি, ইতিহাস লিখেছে—যেন ক্লাসরুম থেকে সোজা বিপ্লবে চলে গেছে!


প্রাঙ্গণের সৌন্দর্য: যেখানে ভাস্কর্য হাসে আর ছাত্ররা ছায়ায় বসে


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোথায় অবস্থিত বললে বলবো, ঢাকার রমনা এলাকায়—কিন্তু এটি শুধু ঠিকানা নয়, একটা জীবন্ত মিউজিয়াম। কার্জন হল আর কলা ভবন দেখলে মনে হয়, ব্রিটিশরা বলেছিল, "চলো, একটা ভবন বানাই যাতে ছাত্ররা পড়ার ফাঁকে ছবি তুলতে পারে!" এখানে অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্য আছে, যা স্বাধীনতার স্মৃতি—আর সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্য, যেন বলছে, "সন্ত্রাস নয়, শিক্ষা চাই!"


ক্যাম্পাসে বোটানিক্যাল গার্ডেন আছে, যেখানে ৫০০-এর বেশি উদ্ভিদ প্রজাতি—দুর্লভ তেলসুর থেকে সুন্দরী গাছ। মজার কথা, এখানে ছাত্ররা পড়ার ফাঁকে গাছের ছায়ায় বসে চা খায়, আর ভাবে, "পরীক্ষা তো আসবে যাবে, গাছ তো থাকবে!" স্বাস্থ্যসেবা ফ্রি, ক্যাফেটেরিয়ায় মধুর ক্যান্টিনের মতো ঐতিহাসিক স্পট—যেখানে খাওয়ার ফাঁকে ইতিহাস শোনা যায়।


অনুষদ এবং শিক্ষা: যেখানে বিজ্ঞান হাসে, কলা গায়


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩টি অনুষদ, ৮৩টি বিভাগ, আর অসংখ্য ইনস্টিটিউট—যেন একটা মিনি দেশ! কলা অনুষদে বাংলা থেকে নৃত্য, সামাজিক বিজ্ঞানে অর্থনীতি থেকে অপরাধবিদ্যা। বিজ্ঞান অনুষদে পদার্থবিজ্ঞানীদের মতো মজার ল্যাব—যেখানে ছাত্ররা বলে, "এক্সপেরিমেন্ট ফেল হলে কী, জীবন তো এক্সপেরিমেন্ট!" ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে এমবিএ, যা ১৯৭০-এ শুরু হয়েছিল—আর এখন ৬০০০+ ছাত্র। ভর্তি পরীক্ষা কঠিন, কিন্তু পাস করলে মনে হয়, "জিতলাম!"


গ্রন্থাগারটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড়—৯ লক্ষ বই! ই-লাইব্রেরি আছে, যা অক্সফোর্ডের সাথে লিঙ্কড—যেন বলছে, "পড়ো বাড়িতে বসে, কিন্তু ক্যাম্পাসে আসো মজার জন্য।"


বিখ্যাত মানুষজন: নোবেল থেকে তারকা, সবাই এখানে পড়েছে


এখানে পড়েছেন ১৩ জন রাষ্ট্রপতি, ৭ জন প্রধানমন্ত্রী—শেখ মুজিব থেকে শেখ হাসিনা। নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস, সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ, অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী—যেন একটা সেলিব্রিটি ফ্যাক্টরি! মজার কথা, এখানকার ছাত্ররা বলে, "পড়াশোনা করে রাষ্ট্রপতি হবো, নয়তো অভিনেতা—দুটোই মজার!"


ছাত্রজীবনের মজা: খেলা, রাজনীতি আর সংস্কৃতি


ক্যাম্পাসে খেলাধুলা, ডিবেট, সংস্কৃতি—ডাকসু (কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) আছে, যা নির্বাচন হলে মনে হয়, "জাতীয় নির্বাচনের রিহার্সাল!" সংগঠনগুলোতে ছাত্রলীগ থেকে উদীচী—সবাই মিলে ক্যাম্পাসকে জীবন্ত করে। আর সমাবর্তন? সেটা তো পার্টি, যেখানে গ্র্যাজুয়েটরা পোশাক পরে হাসে আর ছবি তোলে।


শেষ কথা: কেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখনও হাসে


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোথায় অবস্থিত? ঢাকার কেন্দ্রস্থলে, কিন্তু এর হৃদয় সারা বাংলাদেশে। র‍্যাঙ্কিংয়ে এশিয়ার শীর্ষে, কিন্তু মজার কথা, এখানে র‍্যাঙ্কিং নয়, স্মৃতি গুরুত্বপূর্ণ। যদি কখনো ঘুরে আসেন, দেখবেন—ইতিহাস হাসে, ছাত্ররা হাসায়, আর আপনি হাসবেন! আরও জানতে চাইলে, ক্যাম্পাসে চলে আসুন—পড়াশোনা ফ্রি না হলেও হাসি তো ফ্রি।

Tags:

Post a Comment

0Comments

Post a Comment (0)