রমজানের রোযা: কুরআন-হাদিসের আলোয় যে মজার তথ্য
ভাই-বোন, রমজান এলেই পেটটা প্রথমে অভিযোগ করে, “আরে বস, আজ আবার কেন ছুটি নিলি?” কিন্তু আত্মাটা ফিসফিসিয়ে বলে, “চুপ কর, এটা তো জান্নাতের এক্সপ্রেস টিকিট!”
ঠিক এই মজার-গম্ভীর মেজাজেই আজ কথা বলব। "কুরআন মজীদ ও সহীহ হাদীসের আলোকে রোযার গুরুত্ব ও ফযীলত" নিয়ে। আর বিশেষ করে "রমজান মাসের ফজিলত সম্পর্কে হাদিস" যেগুলো শুনলে মনে হবে—ওয়াও, এত বড় রিওয়ার্ড? চলুন, একসাথে হাসতে হাসতে শিখি!
রোযা আসলে কী? (সহজ ভাষায়)
রোযা মানে শুধু না-খাওয়া-না-পান-করা না। এটা একটা "পূর্ণ ডিটক্স"—শরীর, মন, জিভ, চোখ, সবকিছুর। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, স্ত্রী-সহবাস, গালি-গালাজ, মিথ্যা, গীবত—সবকিছু থেকে বিরত থাকা। আল্লাহ বলেছেন:
> “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হলো, যেমন ফরয করা হয়েছিল তোমাদের আগের লোকদের উপর, যাতে তোমরা মুত্তাকী (পরহেজগার) হতে পার।” (সূরা বাকারা: ১৮৩)
মানে, রোযা হলো "আত্মার জিম"। প্রতিদিন ১৫-১৬ ঘণ্টা নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখা। যারা বলেন “রোযা রাখি কিন্তু গীবত করি”, তাদের জন্য ছোট্ট মজা: ভাই, জিমে গিয়ে ডাম্বেল তুলছেন না, শুধু সেলফি তুলছেন—তাহলে কি মাসল হবে?
একদিনও ইচ্ছে করে ছেড়ে দিলে? ওয়াও, বিপদ!
হাদিসে আছে, যে ব্যক্তি শরয়ী ওজর ছাড়া রমজানের একটা রোযাও ইচ্ছে করে ভাঙে, সে আজীবন রোযা রাখলেও সেই একদিনের ক্ষতিপূরণ হবে না। (তিরমিজি, হাদিস: ৭২৩)
এক স্বপ্নের হাদিসে রাসূল ﷺ দেখেছেন—কিছু লোক পাহাড়ে ঝুলছে, তাদের মুখ ছিড়ে রক্ত ঝরছে। জিজ্ঞাসা করায় বলা হয়েছে, “এরা ইফতারের আগেই রোযা ভেঙেছে!”
শুনে গা শিরশির করে? তাই বলি, ভাই-আপু, একদিনও ছাড়বেন না। এটা শুধু গুনাহ না, "একটা অমূল্য ডায়মন্ড ফেলে দেওয়া"!
এবার আসল মজার অংশ—রোযার ১৪টা অসাধারণ ফযীলত (হাদিসের ভাষায়, আমার মজার ভাষায়)
১. আল্লাহ নিজে বলেছেন, “এটা আমার জন্য, আমি নিজে পুরস্কার দেব!”
অন্য আমল দশগুণ, কিন্তু রোযা? আল্লাহ বলেন, “আমি নিজে এর প্রতিদান দেব।” মানে বস নিজে বোনাস দিচ্ছেন—কী লেভেলের ভিআইপি ট্রিটমেন্ট! ( বুখারী:১৭৬১)
২. কিয়ামতের দিন পানি পান করাবেন আল্লাহ
গ্রীষ্মের রোযায় যে পিপাসায় ছটফট করেছে, আল্লাহ বলেছেন, “তাকে আমি তৃষ্ণার দিন পানি খাওয়াব।” ভাবুন, সারাদিন না খেয়ে থাকলে পরকালে আল্লাহ নিজ হাতে পানি দিবেন—কী রোমান্টিক না? (মুসনাদে বাযযার, হাদীস : ১০৩৯)
৩. জান্নাতের ‘রাইয়ান’ দরজা শুধু রোযাদারদের জন্য
সেই দরজা দিয়ে ঢুকলে আর কখনো পিপাসা লাগবে না। আবু বকর (রা.) জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “ইয়া রাসূলুল্লাহ, কেউ সব দরজা থেকে ডাক পাবে?” রাসূল ﷺ হেসে বলেছেন, “হ্যাঁ, আমি আশা করি তুমিও তাদের একজন হবে।” সাবহানাল্লাহ!(সহীহ বুখারী: ১৮৯৬, সহীহ মুসলিম: ১১৫২)
৪. জাহান্নাম থেকে ঢাল + দুর্গ
রোযা = জাহান্নামের আগুন থেকে সুরক্ষা। যুদ্ধের ঢালের মতো। মানে শয়তান আক্রমণ করলে বলবেন, “ভাই, আমার কাছে রোযার শিল্ড আছে!”
৫. রোযা ও কুরআন কিয়ামতের দিন সুপারিশ করবে
রোযা বলবে, “হে আল্লাহ, আমি তাকে খাবার-পানি-কাম থেকে বিরত রেখেছি, তাকে ক্ষমা করুন।” কুরআন বলবে, “আমি তাকে রাতের ঘুম থেকে বিরত রেখেছি।” দুজনের সুপারিশ—কে না চায়?(মুসনাদে আহমাদ: হাদিস ৬৬২৬)
৬. পুরো রমজান রোযা + তারাবীহ = নতুন জন্মের মতো পবিত্র
“যেন সে আজই তার মায়ের পেট থেকে বেরিয়েছে।”
৭. মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে মিশকের চেয়ে সুন্দর
সারাদিন না খেয়ে মুখে যে গন্ধ হয়, আল্লাহ বলেন, “এটা আমার কাছে মিশকের চেয়েও প্রিয়!” (ইফতারের পর টেস্ট করে দেখবেন? )
৮. দুটো আনন্দের মুহূর্ত
এক: ইফতারের সময়। দুই: কিয়ামতে যখন আল্লাহ বলবেন, “নাও তোমার পুরস্কার!”
৯. ইফতারের দোয়া কবুল
ইফতারের মুহূর্তে দোয়া ফেরত যায় না। তাই বলুন—বাবা-মায়ের জন্য, দেশের জন্য, নিজের জন্য।
১০. হিংসা-বিদ্বেষ চলে যায়
রমজানের রোযা + প্রতি মাসে তিন দিন—অন্তর পরিষ্কার!
শেষ কথা (খুব সিরিয়াসলি)
রমজান শুধু না-খাওয়ার মাস না। এটা "আত্মার রিচার্জ মাস"। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই ফজিলতগুলো পুরোপুরি পাওয়ার তাওফিক দিন। আমীন।
এবারের রমজানটা একটু আলাদা করুন। একদিনও না ছেড়ে, হাসতে হাসতে, কিন্তু একনিষ্ঠভাবে রোযা রাখুন।
ইফতারে বেশি বেশি দোয়া করুন। তারাবীহ পড়ুন। কুরআন পড়ুন। আর হ্যাঁ—গীবত থেকে বাঁচুন, নইলে রোযার পুরো ‘পয়েন্ট’ নষ্ট!
"রমজান মোবারক" ভাই-আপু।
আসুন, এবার সত্যি সত্যি জান্নাতের দরজায় নক করি।
(লেখাটি কুরআন-সহীহ হাদিসের আলোয় তৈরি, কিন্তু পড়তে মজা লাগুক—এটাই উদ্দেশ্য ছিল। শেয়ার করুন, যাতে আরও বেশি মানুষ হাসতে হাসতে শিখতে পারে!)

