শরীরে ক্যালসিয়াম বেশি হলে কি হয়?

Pathology Knowledge
0

কল্পনা করুন, আপনার শরীরের ভিতরে একটা ছোট্ট ক্যালসিয়াম পার্টি চলছে। সবাই মিলে নাচানাচি করছে, কিন্তু অতিথির সংখ্যা যখন বেড়ে যায়, তখন পার্টি আর মজার থাকে না—ঘরময় বিশৃঙ্খলা শুরু হয়ে যায়। ঠিক এটাই ঘটে "শরীরে ক্যালসিয়াম বেশি হলে"। চিকিৎসার ভাষায় এর নাম হাইপারক্যালসেমিয়া।

শরীরে ক্যালসিয়াম বেশি হলে কি হয়? হাইপারক্যালসেমিয়ার মজার কিন্তু গুরুতর গল্প




এটা একদম সাধারণ একটা সমস্যা, কিন্তু অনেকেই চুপচাপ এড়িয়ে যান। আসুন আজ হাসতে হাসতে এই বিষয়টা বুঝে নিই, যাতে আপনি নিজেকে আর আপনার পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে পারেন।


শরীরে ক্যালসিয়াম বেশি হলে কি হয় আসলে?


রক্তে ক্যালসিয়ামের স্বাভাবিক মাত্রা সাধারণত ৮.৫ থেকে ১০.৫ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের মধ্যে থাকে। এর চেয়ে বেশি হলেই শরীরের বিভিন্ন অংশ অস্বস্তিতে পড়তে শুরু করে। 


হালকা অবস্থায় হয়তো কিছুই বুঝবেন না। কিন্তু মাত্রা যত বাড়বে, লক্ষণগুলো তত জোরে জানান দিতে থাকবে। মনে রাখবেন—শরীর কখনো চুপ করে থাকে না, সে শুধু আলাদা আলাদা ভাষায় কথা বলে!


যেসব লক্ষণ দেখলে সন্দেহ করবেন


"শরীরে ক্যালসিয়াম বেশি হলে" সাধারণত যেসব সমস্যা দেখা যায়:


- কিডনির অবস্থা খারাপ: অসম্ভব তৃষ্ণা পাওয়া, ঘন ঘন টয়লেটে যাওয়া, এমনকি কিডনিতে পাথরও হতে পারে।

- পেটের অবস্থা: বমি বমি ভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ব্যথা—যেন পেট বলছে “ভাই, এত ক্যালসিয়াম আমি সামলাতে পারছি না!”

- হাড় ও পেশী: হাড়ে ব্যথা, পেশী দুর্বল লাগা, অবসাদ।

- মাথার সমস্যা: মেজাজ খিটখিটে, বিষণ্ণতা, মনোযোগে সমস্যা, বিভ্রান্তি। গুরুতর ক্ষেত্রে কোমা পর্যন্ত যেতে পারে (যদিও এটা খুবই বিরল)।

- হৃদয়ের অবস্থা: অনিয়মিত হার্টবিট, বুক ধড়ফড়।


কেন এমন হয়? প্রধান কারণগুলো


প্রায় ৯০% ক্ষেত্রে দায়ী "প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থির" অতিরিক্ত সক্রিয়তা। এই ছোট ছোট গ্রন্থিগুলো হরমোন বেশি ছেড়ে দিলে ক্যালসিয়াম রক্তে ঢুকে পড়ে। 


দ্বিতীয় প্রধান কারণ "ক্যান্সার" (বিশেষ করে ফুসফুস, স্তন, কিডনি বা মাল্টিপল মায়েলোমা)। 


আরও কিছু কারণ:


- অতিরিক্ত ভিটামিন ডি বা ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট

- কিছু ওষুধ (থিয়াজাইড ডায়ুরেটিক, লিথিয়াম)

- সারকয়েডোসিস বা যক্ষ্মার মতো রোগ

- দীর্ঘদিন শুয়ে-বসে থাকা


কারা বেশি ঝুঁকিতে?


৫০ বছরের বেশি বয়সী মহিলারা (বিশেষ করে মেনোপজের পর), ক্যান্সার রোগী, কিডনি সমস্যায় ভোগা মানুষ এবং যারা বেশি ওষুধ খান। শারীরিক নিষ্ক্রিয়তাও একটা বড় কারণ।


চিকিৎসা কেমন হয়?


হালকা ক্ষেত্রে শুধু পর্যবেক্ষণ আর প্রচুর পানি খাওয়া। মাঝারি-গুরুতর ক্ষেত্রে:


- IV ফ্লুইড + মূত্রবর্ধক ওষুধ

- ক্যালসিটোনিন, বিসফসফোনেট, ডেনোসুমাবের মতো ওষুধ

- মূল কারণের চিকিৎসা (প্যারাথাইরয়েড অপারেশনও লাগতে পারে)


প্রতিরোধ করবেন কীভাবে?


প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি খান (ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ২-৩ লিটার বা তার বেশি)

- ডাক্তার না বললে ক্যালসিয়াম-ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট খাবেন না

- নিয়মিত ওজন বহনের ব্যায়াম করুন

- নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করান, বিশেষ করে যদি ঝুঁকিতে থাকেন


শরীরে ক্যালসিয়াম বেশি হলে কি হয়—সংক্ষেপে মনে রাখুন


এটা কোনো হালকা ব্যাপার নয়। চিকিৎসা না করলে কিডনি নষ্ট, হাড় ভঙ্গুর, হার্টের সমস্যা—এমনকি জীবনযাত্রার মানও অনেক নেমে যেতে পারে। কিন্তু সঠিক সময়ে ধরতে পারলে খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।


"যদি মনে হয়" অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব, অবসাদ বা পেটের সমস্যা হচ্ছে—দেরি না করে ডাক্তারের কাছে যান। একটা সাধারণ রক্ত পরীক্ষাই অনেক কিছু বলে দিতে পারে।


আপনার শরীর আপনার সবচেয়ে দামি সম্পত্তি। তাকে একটু মনোযোগ দিন, সে আপনাকে অনেক দূর নিয়ে যাবে—হাসতে হাসতে! 


(যেকোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় অবশ্যই যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এই লেখা শুধু তথ্যমূলক।)

Tags:

Post a Comment

0Comments

Post a Comment (0)