আরাফার দিনের ফজিলত ও করণীয়

Pathology Knowledge
0

প্রতি বছর জিলহজ মাসের ৯ তারিখ আসে, আর সঙ্গে নিয়ে আসে এক অসাধারণ দিন। হজের মূল রুকন আরাফায় অবস্থান করা হলেও, যারা হজে যাননি, তাদের জন্যও এই দিনটা বছরের সবচেয়ে মূল্যবান দিনগুলোর একটি। যে দিন আল্লাহ বান্দাদের নিয়ে ফেরেশতাদের সামনে গর্ব করেন।(সহীহ মুসলিম: ১৩৪৮)

আরাফার দিনের ফজিলত ও করণীয়


 

একদম সহজ ভাষায় বললে, আরাফার দিন হলো সেই দিন যেদিন আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি সবচেয়ে বেশি দয়া ও ক্ষমা প্রদর্শন করেন। চলুন, মজার করে কিন্তু পুরোপুরি সিরিয়াসলি জেনে নিই এই দিনের ফজিলত ও করণীয়।


আরাফার দিন কেন এত বিশেষ?


"সহজ কথায়, কোনো বড় অর্জনে প্রধান ব্যক্তি যেভাবে আনন্দিত হয়ে সবার সামনে তার দলের প্রশংসা করেন, আরাফার দিনে মহান আল্লাহও তাঁর বান্দাদের নিয়ে ফেরেশতাদের সামনে ঠিক তেমনি গর্ব করেন।" আরাফার দিনে আল্লাহ ঠিক এমনটাই করেন। 


হাদিসে এসেছে, এই দিনে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের এত কাছে আসেন এবং তাদের নিয়ে ফেরেশতাদের সামনে গর্ব করেন। আর সেদিন তিনি সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। 


আরেকটা অসাধারণ ঘটনা হলো— এই দিনেই ইসলাম ধর্ম পূর্ণতা লাভ করেছে। বিদায় হজের সময় আরাফার ময়দানে দাঁড়িয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর উপর সেই বিখ্যাত আয়াত নাযিল হয়: “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করে দিলাম...” (সূরা মায়েদাহ: ৩)।


আরাফার দিনের সবচেয়ে বড় ফজিলতগুলো


১. দু’বছরের গুনাহ মাফ 

যারা হজে যাননি, তাদের জন্য আরাফার দিনের রোজা রাখা অসাধারণ এক সুযোগ। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এই রোজা পূর্ববর্তী এক বছর ও পরবর্তী এক বছরের ছোট গুনাহসমূহের কাফফারা হয়ে যায়। (সহীহ মুসলিম: ১১৬২) 


মজার ব্যাপার হলো, অনেকে ভাবেন রোজা রাখা কষ্টকর। কিন্তু যদি জানেন যে এই একটা রোজায় দু’বছরের ট্রাফিক ফাইন মাফ হয়ে যাচ্ছে, তাহলে তো মনে হয় সারাদিন হাসিমুখে কাটানো যায়!


২. দোয়া কবুলের সোনালি সময়  

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “সর্বোত্তম দোয়া হলো আরাফার দিনের দোয়া।”

এই দিনে দোয়া করার সময় আল্লাহর কাছে যা চাইবেন, তা খুবই সম্ভাবনাময়। বিশেষ করে তওবা, ইস্তিগফার ও কল্যাণের দোয়া।(সুনানে তিরমিযী: ৩৫৮৫)


৩. আল্লাহর নৈকট্য লাভ 

যারা আরাফায় আছেন, তাদের জন্য তো এটাই হজের সবচেয়ে বড় অংশ। আর যারা নেই, তারাও এই দিনে বেশি বেশি ইবাদত, যিকির ও দোয়ার মাধ্যমে সেই নৈকট্য অনুভব করতে পারেন।


আরাফার দিনে কী কী করবেন? (বাস্তবসম্মত করণীয়)


- রোজা রাখুন (হজ না করলে): সকাল থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। শরীর সুস্থ থাকলে অবশ্যই চেষ্টা করুন।

- বেশি বেশি তাকবির পড়ুন: ৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত (মোট ২৩ ওয়াক্ত) প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক পড়ুন।

- সবচেয়ে উত্তম যিকির:  "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর।"

- দোয়া ও ইস্তিগফার: একান্তে বসে, কাঁদতে কাঁদতে তওবা করুন। নিজের, পরিবারের, উম্মাহর জন্য দোয়া করুন।

- কুরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ ও দান-সদকা: যতটুকু সময় পারেন ইবাদতে কাটান।

- হারাম থেকে বিরত থাকুন: এই দিনটাকে পুরোপুরি ইবাদতের জন্য উৎসর্গ করার চেষ্টা করুন।


শেষ কথা


আরাফার দিন শুধু একটা তারিখ নয়, এটা একটা সুযোগ। যেন আল্লাহ বলছেন, “আয়, আজকে আমার কাছে আস, আমি তোকে ক্ষমা করে দিতে চাই।” 


যারা হজ করছেন, তাদের জন্য আরাফায় দাঁড়িয়ে থাকা। আর যারা বাসায় আছেন, তাদের জন্য রোজা, দোয়া, যিকির আর তওবা। 


এই দিনটা যেন আমরা সবাই সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাতে পারি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই দিনের ফজিলত থেকে পূর্ণ অংশ নেয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।


আপনার আরাফার দিনের অভিজ্ঞতা বা পরিকল্পনা কী? কমেন্টে জানাতে পারেন।

Tags:

Post a Comment

0Comments

Post a Comment (0)