শরীরের তাপমাত্রা কত ফারেনহাইট হলে জ্বর ধরা হয়

Pathology Knowledge
0

শরীরের তাপমাত্রা কত ফারেনহাইট হলে জ্বর ধরা হয়


বর্তমান বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রায় প্রতিটি মানুষেরই জ্বর হয়ে থাকে। কিন্তু আমরা অনেকেই জ্বর সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানিনা।তাই আমাদের আজকের এই পোস্টটি পড়ার মাধ্যমে আপনারা জানতে পারবেন শরীরের তাপমাত্রা কত ফারেনহাইট হলে জ্বর ধরা হয়, জ্বর হওয়ার কারণ, মানুষের জ্বর সর্বোচ্চ কত ডিগ্রি হয়, কত ডিগ্রি জ্বর হলে মানুষ মারা যায়,এবং  অতিরিক্ত জ্বর হলে করণীয় সম্পর্কে।






আমরা আজ এই আর্টিকেলে আলোচনা করব শরীরের তাপমাত্রা কত ফারেনহাইট হলে জ্বর ধরা হয়



শরীরের তাপমাত্রা কত ফারেনহাইট হলে জ্বর ধরা হয় 



শরীরের তাপমাত্রা যদি স্বাভাবিকের তাপমাত্রার তুলনায় বেশি হয় তাহলে তাকে জ্বর বলে ধরা হয়। শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শরীরের তাপমাত্রা যদি ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর উপরে ওঠে তাহলে শরীরে জ্বর জ্বর ভাব দেখা দেয় বা জ্বর হয়। 



জ্বর হওয়ার কারণ


মানুষের শরীরে বিভিন্ন কারণে জ্বর হতে পারে। নিচে কারণগুলো দেওয়া হলঃ


১.জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সাথে শরীরে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ে। যার ফলে জ্বর হয়।


২.ঠান্ডা বা সর্দি কাশিজনিত সমস্যার কারণে জ্বর আসতে পারে।


৩.কোন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের আক্রমণের ফলে শরীরে জ্বর আসতে পারে।


৪.কিডনি বা ফুসফুস সংক্রমণ জনিত কারণে জ্বর আসতে পারে।


৫.শরীরে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাল ফ্লু যেমন- করোনাভাইরাস, টাইফয়েড, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু  নিউমোনিয়া, চিকুনগুনিয়া,চিকেন পক্স আক্রমণের ফলে জ্বর আসতে পারে।


৬.প্রস্রাবের ইনফেকশনের কারণে জ্বর আসতে পারে।


৭.টিউমার বা ক্যান্সার জনিত সমস্যার কারণে ও জ্বর আসতে পারে।


৮.অনেক সময় শরীরের যেকোনো জায়গায় টিকা নেওয়ার ফলেও জ্বর আসতে পারে।


৯.রিউমেটিক আর্থ্রাইটিস এর সমস্যা থাকলে শরীরে জ্বর আসতে পারে।


১০.অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার কারণে শরীরে জ্বর আসতে পারে।



জ্বর হওয়ার লক্ষণ


জ্বর হলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের লক্ষণ দেখা দেয়। নিচে লক্ষণ গুলো দেওয়া হলঃ


১.শরীরের তাপমাত্রা ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট এর উপরে যাওয়া ।


২.ক্লান্তি বোধ হওয়া।


৩.শরীর দুর্বল লাগা।


৪.শরীরে ঠান্ডা অনুভূতি  হওয়া।


৫.শরীরে কাঁপুনি হওয়া।


৬.শরীরে বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা হওয়া।


৭.মুখে রুচি কমে যাওয়া।


৮.ক্ষুধা কমে যাওয়া ।


৯.শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দেওয়া ।


উপরোক্ত লক্ষণগুলি দেখা দিলে বুঝবেন আপনার শরীরে জ্বর এসেছে এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।



মানুষের জ্বর সর্বোচ্চ কত ডিগ্রি হয়



সাধারণত শরীরে ৯৮.৬ ডিগ্রি  ফারেনহাইট বা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার উপরে গেলেই তাকে জ্বর বলা হয়।  এই জ্বর মানুষের শরীরে সর্বোচ্চ ১১০  ডিগ্রি ফারেনহাইট হয়ে থাকে। জ্বর ১১০ ডিগ্রি ফারেনহাইট হলে রোগী বাঁচার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে। তাই জ্বর ১০৫ ডিগ্রির উপরে গেলে অবশ্যই যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।



কত ডিগ্রি জ্বর হলে মানুষ মারা যায়


প্রায় প্রতিটি মানুষের শরীরে জ্বরের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ১০৫ ডিগ্রি থেকে ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট  হয়। যদি মানুষের শরীরে জ্বরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১১০ ডিগ্রি  ফারেনহাইট হয়।  তাহলে রোগী মারা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।কারণ জ্বর ১১০ ডিগ্রি ফারেনহাইট হলে তার শরীরে রক্তে থাকা তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়ে যায়। যার ফলে রোগী মারা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি হয়।



অতিরিক্ত জ্বর হলে করণীয়


শরীরে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে জ্বর হয়। আর এই জ্বর হলে শরীর দুর্বল হয়ে যায়। এ সময় শরীরে যত্ন নেওয়া উচিত এবং যত দ্রুত সম্ভব ঘরোয়া উপায়ে জ্বর কমানোর চেষ্টা করা উচিত। তাই জ্বর হলে কি কি করতে হবে তা নিচে দেওয়া হলঃ


১.শরীরে জ্বর হলে তাপমাত্রা কমানোর জন্য মাথায় পানিপট্টি বা জলপট্রি দেওয়া উত্তম। এতে শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা কমানো যায়।


২.শরীরে জ্বর অতিরিক্ত হলে জ্বর কমানোর জন্য হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করা উত্তম। এতে শরীরের তাপমাত্রা কমে।


৩.এ সময় প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিত।


৪.অতিরিক্ত জ্বর হলে সুষম  বা ভিটামিন যুক্ত খাবার খাওয়া উচিত। যাতে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।


৫.শরীরে জ্বর হলে বিশ্রাম নেওয়াটা খুবই জরুরী।  কারণ জ্বর হলে শরীর দুর্বল হয়ে যায়। তাই শরীরকে সতেজ রাখার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম নিতে হবে।


৬.এছাড়া জ্বর হলে জ্বরের সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত।



জ্বর হলে কি খাওয়া উচিত



জ্বর হলে মানুষের শরীর দুর্বল হয়ে যায়। এ সময় সুষম খাবার গ্রহণ করা খুবই জরুরী।


১.জ্বর হলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই এ সময় বিভিন্ন ধরনের ফলের রস বা ডাবের পানি খুবই উপকারী।এছাড়া ফলের রস বা ডাবের পানি জ্বর কমাতেও সাহায্য করে।


২.জ্বর হলে চা খাওয়া উত্তম। কারণ সাধারণ সর্দি জ্বর হলে চা খেলে উপকার পাওয়া যায়।


৩. জ্বর হলে তরল জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত। যা সহজে হজম হয় এবং শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।


৪.জ্বর হলে ভিটামিন ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত।


৫.জ্বর  হলে  চিকেন সুপ খাওয়া যেতে পারে। কারণ জ্বর হলে খাবারের রুচি কমে যায় । তাই এ সময় চিকেন সুপ খেলে খাবারের রুচি বাড়ে এবং শরীরে দুর্বলতা কাটে।


৬.জ্বর হলে বেশি ভাজাপোড়া খাবার, দুধ চা এবং অ্যালকোহল জাতীয় খাবার পরিহার করা উচিত। কারণ এতে শরীরের তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি করে।


৭.এবং অতিরিক্ত জ্বর হলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।




সর্বোপরি আমাদের প্রায় জ্বর হয়ে থাকে। এই জ্বরের কারণে শরীরে দুর্বলতা দেখা যায়। তাই আমাদের জ্বর হলে সঠিক চিকিৎসা নিতে হবে।তাই আমাদের আজকের পোস্টটি যদি আপনারা পড়েন। তাহলে জ্বর  সম্পর্কিত কিছু তথ্য জানতে পারবেন।


Tags:

Post a Comment

0Comments

Post a Comment (0)