ডেঙ্গু জ্বর কত দিন থাকে এবং এই জরুরি তথ্যগুলো জেনে রাখুন

Pathology Knowledge
0

ডেঙ্গু জ্বর কত দিন থাকে এবং এই জরুরি তথ্যগুলো জেনে রাখুন


এই বর্ষা শেষ হলেও ডেঙ্গুর 'পার্টি' যেন থামতেই চাইছে না! সারা দেশে এখনো ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, আর হাসপাতালগুলোতে রোগীদের ভিড় দেখে মনে হয়, এডিস মশারা যেন নতুন বছরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু ভয় পাওয়ার কিছু নেই – সঠিক তথ্য আর একটু সতর্কতা দিয়ে এই 'অতিথি'কে সহজেই বিদায় করা যায়। আজকে হালকা মেজাজে, কিন্তু গুরুত্ব দিয়ে বলছি কিছু জরুরি কথা, যাতে আপনি আর আপনার পরিবার নিরাপদ থাকেন।


ডেঙ্গু জ্বর কত দিন থাকে এবং এই জরুরি তথ্যগুলো জেনে রাখুন


ডেঙ্গু জ্বর কত দিন থাকে?


অনেকেই জিজ্ঞাসা করেন, ”ডেঙ্গু জ্বর কত দিন থাকে”? সাধারণত এই জ্বর ২ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। প্রথমে হঠাৎ করে প্রচণ্ড জ্বর আসে, শরীর ব্যথা করে যেন হাড় ভেঙে যাচ্ছে (তাই তো একে 'ব্রেকবোন ফিভার' বলে!)। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, জ্বর চলে গেলেই সব শেষ নয়। জ্বর কমার ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর শুরু হয় 'সংকটকাল' বা ক্রিটিকাল ফেজ – এটাই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়। এ সময় শরীরের প্লাজমা লিক হয়ে জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই জ্বর সেরে গেলে 'ইয়াহু, ফ্রি!' বলে পার্টি করবেন না – বরং আরও সতর্ক থাকুন!



শুরুতেই ডাক্তার দেখানো কেন জরুরি?


ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বড় ভুল হলো দেরি করা। অনেকে ভাবেন, 'একটু জ্বর, নিজে নিজে সেরে যাবে'। কিন্তু ডেঙ্গুর মৃত্যুর প্রধান কারণই হলো হাসপাতালে দেরিতে আসা। জ্বর হওয়ার প্রথম বা দ্বিতীয় দিনেই ডাক্তারের কাছে যান। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী মা, ডায়াবেটিস বা হার্টের রোগীদের জন্য এটা অত্যন্ত জরুরি। আর হ্যাঁ, পুরনো ধারণা ভুলে যান – ডেঙ্গু টেস্ট জ্বরের প্রথম দিন থেকেই করা যায়, তিন দিন অপেক্ষা করার দরকার নেই!


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩৯ থেকে ৪০ কোটি মানুষ ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। যার মধ্যে প্রায় ২.১ থেকে ৩.৬ কোটি মানুষ গুরুতর অসুস্থ হয়। যার মধ্যে আনুমানিক ২১ হাজার থেকে ৩৬ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।



যেসব লক্ষণ দেখলে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে দৌড়ান


যেসব লক্ষণ দেখলে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে দৌড়ান


জ্বর চলে গেলেও এই লক্ষণগুলো দেখলে আর দেরি নয় – সোজা হাসপাতাল:

- প্রচণ্ড পেটব্যথা বা বারবার বমি

- শ্বাসকষ্ট বা পেট ফুলে যাওয়া

- আঘাত ছাড়াই রক্তপাত (নাক দিয়ে, মাড়ি থেকে বা চামড়ায়)

- অতিরিক্ত দুর্বলতা বা জ্ঞান কমে যাওয়া

- প্রস্রাব খুব কম হওয়া


এগুলো দেখলে ভাববেন না 'একটু পর ঠিক হয়ে যাবে' – মশা তো আপনার সঙ্গে মজা করছে না!


প্রতিরোধই সেরা ওষুধ


ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো মশার প্রজনন বন্ধ করা। বাসায় পানি জমতে দেবেন না, গাছের টব বা কন্টেইনার নিয়মিত পরিষ্কার করুন। দিনের বেলায়ও মশা কামড়ায়, তাই শিশু-বুড়ো সবাই রিপেলেন্ট ক্রিম বা কয়েল ব্যবহার করুন। আর হ্যাঁ, মশারি টাঙানো ভুলবেন না যেন – এডিস মশা তো রাতের অতিথি নয়!


ডেঙ্গু ভয়ের নয়, শুধু সচেতনতার ব্যাপার। এই জরুরি তথ্যগুলো জেনে রাখুন, শেয়ার করুন, আর সুস্থ থাকুন। যদি জ্বর হয়, তাহলে হাসি মুখে ডাক্তারের কাছে যান – কারণ সময়মতো চিকিৎসায় ডেঙ্গুকে হারানো খুবই সহজ!


আমাদের আজকের এই আর্টিকেলটি মূলত ডেঙ্গু জ্বর থেকে বাঁচার জন্য সচেতনতামূলক পোস্ট। তাই ডেঙ্গু জ্বর হলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। 

Tags:

Post a Comment

0Comments

Post a Comment (0)