ব্র্যাক এনজিও: উন্নয়নের সুপারহিরো, যার কেপ অদৃশ্য কিন্তু প্রভাব অসীম!

Pathology Knowledge
0

ব্র্যাক এনজিও: উন্নয়নের সুপারহিরো, যার কেপ অদৃশ্য কিন্তু প্রভাব অসীম!


বাংলাদেশের মাটিতে জন্ম নেয়া ব্র্যাক এনজিওকে যদি এক কথায় বর্ণনা করতে হয়, তাহলে বলবো – এটা একটা "মাল্টিটাস্কিং মাস্টারপিস"! ১৯৭২ সালে স্যার ফজলে হাসান আবেদের হাত ধরে শুরু হওয়া এই সংস্থা আজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় উন্নয়নমূলক এনজিওগুলোর একটা। কল্পনা করুন, একটা সংস্থা যা দারিদ্র্যের সাথে যুদ্ধ করে, শিক্ষার আলো ছড়ায়, স্বাস্থ্যসেবা দেয় এবং দুর্যোগে পাশে দাঁড়ায় – সবকিছু একসাথে! ব্র্যাক এনজিও সম্পর্কে তথ্য খুঁজছেন? চলুন, একটা মজার যাত্রায় বেরিয়ে পড়ি, যেখানে গুরুতর বিষয়গুলোকে হালকা হাস্যরস দিয়ে মোড়া।


ব্র্যাক এনজিও: উন্নয়নের সুপারহিরো, যার কেপ অদৃশ্য কিন্তু প্রভাব অসীম!


ব্র্যাকের জন্মকথা: যুদ্ধের ছাই থেকে উন্নয়নের ফিনিক্স


বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে ব্র্যাকের জন্ম। প্রথম নাম ছিল "বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন অ্যাসিস্ট্যান্স কমিটি" – যা পরে "বাংলাদেশ রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট কমিটি" এবং অবশেষে "বিল্ডিং রিসোর্সেস অ্যাক্রস কমিউনিটিজ" হয়ে ওঠে। স্যার ফজলে হাসান আবেদ সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় ছোট্ট ত্রাণ প্রকল্প দিয়ে শুরু করেন। যুদ্ধে ধ্বংস হওয়া ১৪ হাজার ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ, শত শত নৌকা তৈরি – এসব করে নয় মাসে তারা যেন একটা ম্যাজিক শো করে ফেললেন! হাস্যকরভাবে বললে, ব্র্যাক যেন বলছে, "দুর্যোগ? ওটা তো আমাদের প্রিয় চ্যালেঞ্জ!"


১৯৭০-এর দশকে ব্র্যাক কৃষি, মৎস্য, সমবায়, হস্তশিল্প এবং নারীদের প্রশিক্ষণে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ১৯৭৭ সালে গ্রাম সংগঠন (ভিও) তৈরি করে ভূমিহীনদের সাহায্য করে, এবং একই বছর আড়ং নামে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান শুরু করে নিজেদের অর্থায়ন নিশ্চিত করে। আজকের ব্র্যাক? বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় ছড়িয়ে আছে, এবং এশিয়া, আফ্রিকা ও আমেরিকার ১৩টি দেশে কাজ করছে। কর্মী? প্রায় ১ লক্ষ, যাদের ৭০% নারী – যেন একটা "গার্ল পাওয়ার" আর্মি!


ব্র্যাকের কার্যক্রম: যেখানে উন্নয়ন মিলে হাসি আর সাফল্যের সাথে


ব্র্যাক এনজিও সম্পর্কে তথ্য বলতে গেলে তার কার্যক্রমগুলোকে এড়ানো যায় না। এরা যেন একটা সুপারমার্কেট – সবকিছু আছে!


অর্থনৈতিক উন্নয়ন: দারিদ্র্যকে "বাই বাই" বলা


১৯৭৪ সাল থেকে ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প চালু। আজ পর্যন্ত ১.৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেয়া হয়েছে, ৯৫% নারীদের কাছে, এবং রিটার্ন রেট ৯৮%! হাস্যরস? এরা দারিদ্র্যকে এতটা "লোন" দিয়েছে যে দারিদ্র্য নিজেই লোন নেয়ার কথা ভাবছে! আড়ং-এর মাধ্যমে ৬৫ হাজার কারিগরের পণ্য বিক্রি করে, যেমন হস্তশিল্প, দুগ্ধজাত পণ্য। ২০২৬ পর্যন্ত, ব্র্যাক ১২.৪ মিলিয়ন মাইক্রোফাইন্যান্স গ্রাহককে সাহায্য করেছে, এবং বাংলাদেশে ২.৩ মিলিয়ন পরিবারকে চরম দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করেছে।


শিক্ষা: আলো ছড়ানোর মজার ক্লাসরুম


১৯৮৫ সাল থেকে উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা। আজ ২২,৭০০ বিদ্যালয়ে ৬৭ লক্ষ শিশু পড়ে, যাদের ৬০% মেয়ে। প্রতি ক্লাসে ৩৩ জন শিক্ষার্থী, একজন শিক্ষক – এবং খাবারও দেয়! ২০২৬-এ, ব্র্যাক স্কুল থেকে ৫০% শিশু গ্র্যাজুয়েট করেছে। হাস্যকর দিক? এরা শিক্ষাকে এতটা সহজ করে দিয়েছে যে শিশুরা বলতে পারে, "স্কুল? ওটা তো আমাদের প্লে-গ্রাউন্ড!"


জনস্বাস্থ্য: ডায়রিয়া থেকে অ্যাসিড অ্যাটাক পর্যন্ত যুদ্ধ


১৯৭৯ সালে ডায়রিয়া প্রতিরোধ প্রচারণা শুরু – ঘরোয়া উপাদান দিয়ে ওআরএস তৈরি শেখানো। দশ বছরে ৭৫ হাজার গ্রাম কভার! আজ বাংলাদেশে ৮০% মা এটা জানে। ২০০২ সালে অ্যাসিড অ্যাটাক প্রতিরোধ আইনের পিছনে ভূমিকা – যার ফলে অ্যাটাক ১৫-২০% কমেছে। বিল গেটস বলেছেন, "ব্র্যাক অসাধ্য স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধান করে!" মজা? এরা ডায়রিয়াকে এতটা ভয় দেখিয়েছে যে ডায়রিয়া নিজেই "ওআরএস" খেয়ে লুকিয়ে থাকে!


ত্রাণ ও সামাজিক সহায়তা: দুর্যোগের বন্ধু


২০০৭-এ সিডর ঘূর্ণিঝড়ে ৯ লক্ষ লোককে ত্রাণ, ৬০ হাজারকে চিকিৎসা। আজ ৩ লক্ষ গ্রাম সংগঠন, যাদের ৮০ হাজার ব্র্যাকের নিয়ন্ত্রণে। ৭০% স্বাবলম্বী – চক, বীজ, জুতো উৎপাদন করে। ২০২৫-এ কক্সবাজারে ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ, যেখানে যুবকদের আইডিয়া পুরস্কৃত। হাস্য? ব্র্যাক যেন দুর্যোগকে বলে, "আসো, তোমাকে একটা পুনর্বাসন পার্টি দেবো!"


আন্তর্জাতিক ছড়ানো: বিশ্বজোড়া ব্র্যাক


বাংলাদেশ ছাড়া আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, নেপাল, মিয়ানমার, উগান্ডা, তানজানিয়া, দক্ষিণ সুদান, লাইবেরিয়া, সিয়েরা লিওন, হাইতি – এসব দেশে কাজ। সুদান, ইন্দোনেশিয়ায় প্রযুক্তিগত সাহায্য। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে অফিস। ২০২৬ পর্যন্ত, ১৪৫ মিলিয়ন লোকের সাথে অংশীদারিত্ব। নাইকি ফাউন্ডেশনের সাথে উগান্ডা-তানজানিয়ায় মেয়েদের প্রোগ্রাম। মজা? ব্র্যাক যেন বিশ্বকে বলছে, "দারিদ্র্য? গ্লোবাল ট্যুরে নেয়া যাক!"


বিতর্কের ছায়া: ২০২৪-এর ঝড়


২০২৪-এ ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আসিফ মাহতাব পাঠ্যবইয়ের রূপান্তরকামী বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ করে চাকরিচ্যুত হন। সোশ্যাল মিডিয়ায় বয়কট কল – আড়ং, ব্র্যাক পণ্য। শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে। ইসলামী আন্দোলনও বয়কট ঘোষণা। কিন্তু ব্র্যাক তার মিশন চালিয়ে যাচ্ছে। হাস্যরস? বিতর্ক যেন ব্র্যাকের "স্পাইস" – এটা ছাড়া উন্নয়নের গল্প অসম্পূর্ণ!


পুরস্কারের ঝলক: বিশ্বের সেরা


ব্র্যাকের ঝুলিতে অসংখ্য পুরস্কার। ২০১৬-২০১৮ পর্যন্ত এনজিও অ্যাডভাইজারের "বিশ্বের এক নম্বর এনজিও"। ২০০৭-এ স্বাধীনতা পুরস্কার। ২০২৫-এ স্যার ফজলে হাসান আবেদের জন্য স্বাধীনতা পুরস্কার (পোস্টহিউমাসলি)। গেটস অ্যাওয়ার্ড, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ – সবই আছে। মজা? এত পুরস্কার যে ব্র্যাকের অফিসে একটা "ট্রফি রুম" দরকার!


শেষ কথা: ব্র্যাকের ভবিষ্যৎ


ব্র্যাক এনজিও সম্পর্কে তথ্য বলতে গেলে এটা স্পষ্ট – এরা ১৪৫ মিলিয়ন লোকের জীবন ছুঁয়েছে। ২০২৫-এ হ্যাকাথন, ক্লাইমেট ইনোভেশন – ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। যদি আপনি উন্নয়নের গল্প খুঁজছেন, ব্র্যাক যেন একটা কমিক বুক – হিরো, চ্যালেঞ্জ, বিজয়! আরও জানতে brac.net চেক করুন।


(তথ্যসূত্র: ব্র্যাক অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, বিভিন্ন নিউজ সোর্স থেকে সংগৃহীত। ২০২৬-এর আপডেট অনুযায়ী।)

Tags:

Post a Comment

0Comments

Post a Comment (0)