ক্রিয়েটিনিন রক্ত পরীক্ষা: কিডনির গোপন সিগন্যাল ধরার সহজ উপায়
কল্পনা করুন, আপনার শরীরের পেশীগুলো প্রতিদিন জিমে ওয়ার্কআউট করছে, কিন্তু তারা একটা ছোট্ট "বর্জ্য" ফেলে দিচ্ছে—যার নাম **ক্রিয়েটিনিন**। এই বর্জ্যটা রক্তে মিশে যায়, আর সুস্থ কিডনি তাকে দ্রুত ফিল্টার করে প্রস্রাবের সাথে বাইরে পাঠিয়ে দেয়। যদি কিডনি একটু ঘুমিয়ে পড়ে বা ক্লান্ত হয়ে যায়, তাহলে এই ক্রিয়েটিনিন রক্তে জমতে শুরু করে। আর ডাক্তাররা ঠিক এই জমার পরিমাণ দেখেই বোঝেন—কিডনি কতটা "অন ডিউটি" আছে!
"ক্রিয়েটিনিন রক্ত পরীক্ষা" ঠিক এই কাজটাই করে। এটা একটা সাধারণ রক্তের টেস্ট, যেখানে ল্যাবে আপনার রক্তের সিরামে ক্রিয়েটিনিনের লেভেল মাপা হয়। এর ফলাফল থেকে ডাক্তাররা সহজেই অনুমান করতে পারেন আপনার কিডনির ফিল্টারিং ক্ষমতা কেমন—যাকে বলে eGFR বা গ্লোমেরুলার ফিল্ট্রেশন রেট।
কেন এই টেস্ট করানো হয়? (আর কখন ডাক্তার বলেন "যাও, করিয়ে আয়!")
ডাক্তাররা এই টেস্ট সাজেস্ট করেন যখন:
- ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ আছে (এরা কিডনির সবচেয়ে বড় শত্রু!)
- প্রস্রাবে ফেনা পড়ছে, পা-মুখ ফুলছে, বা ক্লান্তি লাগছে অস্বাভাবিকভাবে
- কোনো ওষুধ খাচ্ছেন যা কিডনির উপর চাপ দিতে পারে
- কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের পর চেকআপ
- রুটিন হেলথ চেকআপে, বিশেষ করে ৪০+ বয়সে
এটা যেন কিডনির "এইচআর ডিপার্টমেন্ট"—কর্মচারী (কিডনি) কতটা প্রোডাক্টিভ তা মাপে!
ক্রিয়েটিনিন টেস্ট কি খালি পেটে করতে হয়? (সবচেয়ে জ্বলজ্বলে প্রশ্ন!)
এখানে আসল মজা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে "ক্রিয়েটিনিন রক্ত পরীক্ষা"এর জন্য খালি পেটে থাকার দরকার হয় না। আপনি সকালের নাশতা করে, চা-কফি খেয়েও টেস্ট করাতে পারেন। কারণ খাবার সরাসরি ক্রিয়েটিনিন লেভেলকে খুব বেশি প্রভাবিত করে না।
তবে কয়েকটা "বাট" আছে:
- যদি এই টেস্টটা অন্যান্য টেস্টের সাথে একসাথে হয় (যেমন লিপিড প্রোফাইল, গ্লুকোজ বা CMP/BMP প্যানেল), তাহলে ডাক্তার প্রায়ই ৮-১২ ঘণ্টা উপবাস (শুধু পানি খাওয়া যায়) বলে দেন।
- কিছু ল্যাব বা ডাক্তার অতিরিক্ত সতর্কতায় রাতারাতি উপবাস চান, বিশেষ করে যদি মাংস-ভিত্তিক খাবার বেশি খান (কারণ রান্না করা মাংস অল্প সময়ের জন্য লেভেল বাড়াতে পারে)।
- ক্রিয়েটিন সাপ্লিমেন্ট খাচ্ছেন? টেস্টের আগে কয়েকদিন বন্ধ করতে বলা হতে পারে।
সুতরাং, সবচেয়ে ভালো: ডাক্তার বা ল্যাবকে আগে থেকে জিজ্ঞাসা করে নিন। "ভাই, খালি পেটে লাগবে?"—এই একটা লাইন বললেই সব ক্লিয়ার!
আরো পড়ুন: ক্রিয়েটিনিন টেস্ট খরচ
স্বাভাবিক পরিসর আর ফলাফলের অর্থ কী?
স্বাভাবিক লেভেল (সিরাম ক্রিয়েটিনিন, mg/dL এককে):
- পুরুষ: প্রায় ০.৭৪–১.৩৫
- মহিলা: প্রায় ০.৫৯–১.০৪
(ল্যাবভেদে সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে।)
যদি লেভেল বেশি হয় → কিডনি ফিল্টার করতে গোলমাল করছে (ডিহাইড্রেশন, ইনফেকশন, ক্রনিক কিডনি ডিজিজ ইত্যাদি)।
যদি কম হয় → পেশী কম, অপুষ্টি বা অন্য কোনো কারণ।
একা ক্রিয়েটিনিন দেখে সব বোঝা যায় না—ডাক্তার eGFR, BUN, প্রস্রাব টেস্ট সব মিলিয়ে দেখেন।
শেষ কথা: চিন্তা কম করুন, চেকআপ বেশি করুন!
ক্রিয়েটিনিন টেস্টটা যেন কিডনির "থার্মোমিটার"—সামান্য বাড়লেই সিগন্যাল দেয় যে "হেই, পানি খাও, ওষুধ দেখো, ডায়াবেটিস কন্ট্রোল করো!" আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে খালি পেটে না করলেও চলে। তাই পরেরবার ডাক্তার বললেন টেস্ট করতে, ভয় না পেয়ে জিজ্ঞাসা করুন—আর স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখুন। কারণ সুস্থ কিডনি মানেই সুস্থ জীবন!
(এই লেখাটা সাধারণ তথ্যের উপর ভিত্তি করে। ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের জন্য অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।)

.png)