লো প্রেশার হলে কী করবেন? প্রেসার কমে গেলে করণীয় সহজ টিপস
আহা, লো প্রেশার! এটা তো সেই অতিথির মতো, যে হঠাৎ করে এসে পড়ে আর আপনার দিনটাকে একেবারে ফিকে করে দেয়। মনে হয় শরীরটা যেন একটা বেলুন, যার হাওয়া কমে গিয়ে উড়তে চায় না। অনেকে ভাবেন, লো ব্লাড প্রেশার মানেই দুর্বলতা বা শুধু স্লিম মানুষের সমস্যা। কিন্তু না, এটা যে কারও হতে পারে – এমনকি সেই স্থূলকায় বন্ধুরও, যে সারাদিন খেয়ে যায়! জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা বলেন, সিস্টোলিক প্রেশার ৯০ এর নিচে আর ডায়াস্টোলিক ৬০ এর নিচে গেলে এটাকে নিম্ন রক্তচাপ বলা হয়। তাহলে প্রশ্ন হলো, প্রেসার কমে গেলে করণীয় কী? চলুন, একটু মজার ছলে জেনে নিই, কীভাবে এই 'লো'কে 'হাই'তে পরিণত করবেন – অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে!
লো প্রেশার কেন হয়? কারণগুলো জেনে নিন
লো প্রেশারের কারণ তো অনেক, যেন একটা কমেডি শো – কখনো অপ্রত্যাশিত, কখনো প্রত্যাশিত। প্রধান কারণগুলো হলো:
-পানিশূন্যতা: শরীরে পানি কমে গেলে রক্তের ভলিউম কমে, প্রেশারও নেমে যায়। গরমের দিনে সেই 'আমি তো পানি খাই না' অভ্যাসটা যেন আপনার শত্রু হয়ে দাঁড়ায়।
-ডায়রিয়া বা বমি: অতিরিক্ত ফ্লুইড লস হলে প্রেশার ড্রপ করে। এটা তো সেই অতিথির মতো, যে এসে সবকিছু উলটপালট করে চলে যায়।
-খাবারের অনিয়ম: সময়মতো না খাওয়া বা হজমের সমস্যা (ম্যালঅ্যাবজর্পশন) – এটা শরীরের জন্য একটা 'হ্যাঙ্গোভার'।
-দীর্ঘমেয়াদি রোগ: ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো সমস্যা থাকলে এটা হতে পারে।
-হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েদের প্রথম ছয় মাসে এটা সাধারণ।
-রক্তশূন্যতা বা আঘাত: দুর্ঘটনায় রক্তপাত হলে বা পুষ্টির অভাবে। আর অতিরিক্ত পরিশ্রম, দুশ্চিন্তা বা ভয় – এগুলো তো লো প্রেশারের 'বেস্ট ফ্রেন্ড'!
মজার কথা, অনেকে ভাবেন লো প্রেশার মানেই স্বাস্থ্য খারাপ। কিন্তু না, এটা কখনো কখনো স্বাভাবিকও হয় – যেন শরীর বলছে, "আরাম করো একটু!"
লো প্রেশারের লক্ষণ: এগুলো দেখলে সতর্ক হোন
লো প্রেশারের লক্ষণগুলো তো সেই সুপারহিরো মুভির ভিলেনের মতো – হঠাৎ আবির্ভাব! যদি এগুলো দেখেন, তাহলে বুঝবেন প্রেসার কমে গেলে করণীয় কী করতে হবে:
- মাথা ঘোরা বা হালকা অনুভূতি – যেন আপনি একটা কারুসেলে চড়েছেন।
- অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা ভারসাম্যহীনতা, বিশেষ করে শোয়া থেকে উঠলে।
- চোখে ঝাপসা বা অন্ধকার দেখা – সরষের ফুল দেখার মতো!
- শারীরিক দুর্বলতা, মানসিক অবসাদ – কোনো কিছুতে মন দিতে না পারা।
- ঘন ঘন শ্বাস নেওয়া, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া।
- অতিরিক্ত তৃষ্ণা বা দ্রুত হৃদস্পন্দন।
যদি এগুলো দেখেন, তাহলে ভাববেন না "আহা, আজকে কফি কম খেয়েছি" – চেক করুন প্রেশার!
লো নাকি হাই প্রেশার – কোনটা বেশি বিপজ্জনক?
এটা তো সেই চিরন্তন প্রশ্ন, যেন "প্রথমে ডিম না মুরগি?" দুটোই খারাপ, কিন্তু লো প্রেশারটা একটু বেশি 'ড্রামাটিক'। কারণ হঠাৎ প্রেশার কমলে মস্তিষ্ক, কিডনি বা হার্টে রক্ত সরবরাহ কমে যায় – এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও! উদাহরণস্বরূপ, ডায়রিয়ায় পানিশূন্যতা হলে স্যালাইন দেওয়া হয় তাৎক্ষণিক। অন্যদিকে, হাই প্রেশার দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে, যেন একটা স্লো পয়জন। তাই দুটোই নিয়ন্ত্রণে রাখুন – লো প্রেশার হলে কী করবেন, সেটা আগে থেকে জেনে রাখুন!
প্রেসার কমে গেলে করণীয়: বাড়িতে প্রাথমিক পদক্ষেপ
লো প্রেশারের সুনির্দিষ্ট ওষুধ নেই, কিন্তু উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা। যদি পানিশূন্যতা বা ইলেকট্রোলাইটের সমস্যা হয়, তাহলে খাবার স্যালাইনই যথেষ্ট। দীর্ঘমেয়াদি হলে ডাক্তার দেখান। কিন্তু বাড়িতে কী করবেন? এখানে কিছু মজার টিপস:
-ধীরে ধীরে উঠুন: অনেকক্ষণ বসে বা শুয়ে থাকার পর হঠাৎ না উঠে, যেন একটা কচ্ছপের মতো ধীরে চলুন।
-ঘন ঘন খান: খালি পেটে থাকবেন না – হালকা স্ন্যাকস রাখুন, যেন শরীরের 'ফুয়েল' কখনো শেষ না হয়।
-পানি পান করুন: দিনে ৮-১০ গ্লাস – এটা তো লো প্রেশারের 'সুপারহিরো'!
-লবণ যোগ করুন: খাবারে এক চিমটি লবণ – কিন্তু অতিরিক্ত নয়, না হলে হাই প্রেশারের ফাঁদে পড়বেন।
-গ্লুকোজ বা স্যালাইন: দৈনন্দিনে রাখুন – তাৎক্ষণিক রিলিফের জন্য।
যদি অসুস্থতা থেকে হয়, যেমন জ্বর বা ডায়রিয়া, তাহলে ডাক্তারের কাছে যান।
লো প্রেশারে কী খাবেন? খাদ্যতালিকা যা প্রেশার বাড়াবে
লো প্রেশারে খাবার তো সেই 'জাদুর ছড়ি' – সঠিক খেলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে যায়। ফোকাস করুন আয়রন, ভিটামিন সি, বি১২ এবং ফলেটে। এখানে কিছু সাজেশন:
-ডিম: এটা তো 'পারফেক্ট ফুড' – ভিটামিন বি১২ দিয়ে প্রেশার বাড়ায়। প্রতিদিন একটা খান, যেন আপনার শরীরের 'বুস্টার'।
-তরল খাবার: স্যুপ, কফি, ফলের রস, দুধ – এগুলো শরীরকে হাইড্রেট রাখে।
-টক ফল: লেবু, কমলা – ভিটামিন সি আর পটাশিয়াম দিয়ে সোডিয়াম ব্যালেন্স করে।
-মাংস, মাছ ও শাকসবজি: গরু-মুরগির মাংস, সামুদ্রিক মাছ, পালং শাক, কচু শাক – আয়রনের ভান্ডার।
-ডাবের পানি: সোডিয়াম দিয়ে তাৎক্ষণিক প্রেশার বাড়ায় – গরমের দিনে তো এটা 'লাইফসেভার'!
-ডার্ক চকলেট: যদি প্রেশার খুব লো হয়, একটু খান – মজা করে প্রেশার বাড়ান!
-তাৎক্ষণিক রিলিফ: স্যালাইন, আঙ্গুরের রস বা লবণযুক্ত চিপস – কিন্তু অতিরিক্ত নয়।
যাদের কায়িক পরিশ্রম বেশি, তারা এই খাদ্যতালিকা ফলো করলে ধীরে ধীরে উন্নতি দেখবেন।
শেষ কথা: লো প্রেশারকে জয় করুন
লো প্রেশার তো জীবনের একটা ছোট চ্যালেঞ্জ – অতিরিক্ত চিন্তা করবেন না, কিন্তু উপেক্ষাও করবেন না। প্রেসার কমে গেলে করণীয় হলো সঠিক খাবার, পানি আর লাইফস্টাইল চেঞ্জ। যদি লক্ষণগুলো অব্যাহত থাকে, তাহলে ডাক্তারের কাছে যান – কারণ স্বাস্থ্য তো হাসির মতো, রক্ষা করলে আরও মজা! মনে রাখবেন, একটা সুস্থ শরীরই সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাহলে, আজ থেকেই শুরু করুন – এক গ্লাস পানি খেয়ে!

